২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন জরিপ ও বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলছে—রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে, যা ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি নির্বাচনে সম্ভাব্য কারচুপির আশঙ্কা নিয়েও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিতর্কের কারণে ডেমোক্র্যাট নেতারা আগাম নানা পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ তাকে সমর্থন করছেন।
আসন্ন নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দলের জন্য নানা কারণে কঠিন হয়ে উঠছে। এর অন্যতম কারণ তার জনপ্রিয়তার পতন। অর্থনীতি, অভিবাসন এবং পররাষ্ট্র নীতিতে অসন্তোষের ফলে তার প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান-সংক্রান্ত নীতির কারণে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
চার দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন করেন। এর আগে ১৫ থেকে ২০ এপ্রিল পরিচালিত জরিপে এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা লাগে।
সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি মাত্র ২২ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে, যা আগের জরিপে ছিল ২৫ শতাংশ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে। এদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ২০ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করছেন। তবে প্রতি চারজনের একজন এখনো সিদ্ধান্তহীন।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও একটি বড় উদ্বেগের কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বিভিন্ন ইস্যুতে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ প্রশাসনের জন্য চাপ তৈরি করছে। ‘সেভ আমেরিকা’ নামে ভোট আইন সংস্কারের উদ্যোগও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো—রিপাবলিকানরা যদি সিনেট বা হাউসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তা ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হবে এবং অভিশংসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া অভিবাসন নীতি ও ইরান ইস্যুতে নিজ দলের ভেতরেও মতভেদ দেখা যাচ্ছে, যা দলের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে।
এসব প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আরও আগ্রাসী অবস্থান নিচ্ছেন, আর ডেমোক্র্যাটরাও পাল্টা প্রস্তুতি জোরদার করছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জো মরেল জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে একটি কমিটি সম্ভাব্য ১৫০টি পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে অভিবাসন বাহিনী মোতায়েন, ডাকযোগে ভোট বাতিল কিংবা ব্যালট জব্দের মতো আশঙ্কাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে—যদিও এসবের অনেক কিছু আগে কখনো ঘটেনি।
ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, ট্রাম্প ভোট গ্রহণ ও গণনা—উভয় পর্যায়েই হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারেন। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বড় ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা কম। ২০২০ সালেও তিনি তা করতে পারেননি। তবে তিনি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, এসব বিতর্ক ডেমোক্র্যাট ভোটারদের আরও সক্রিয় করে তুলছে। ফলে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।














