গুগল (Google)-এর একটি বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য ইমেল পরিষেবা হলো জিমেইল (Gmail)। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাহায্যে ইলেকট্রনিক চিঠি বা মেইল আদান-প্রদান করা যায়। জিমেইল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত ইমেল প্ল্যাটফর্ম
আপনার পূর্ববর্তী প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জিমেইল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং এটি তৈরির পদ্ধতির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
জিমেইল আসলে কী এবং কেন এটি প্রয়োজনীয়?
-
ইমেল পরিষেবা: এটি মূলত ডিজিটাল চিঠি পাঠানো এবং গ্রহণ করার একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে আপনি কেবল টেক্সট মেসেজই নয়, ছবি, ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য ফাইলও অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে পাঠাতে পারেন।
-
গুগল অ্যাকাউন্টের চাবিকাঠি: একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা মানে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। এই একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই আপনি গুগলের অন্যান্য জনপ্রিয় পরিষেবা যেমন: YouTube, Google Drive, Google Maps, Google Play Store (অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য), Google Photos ইত্যাদি অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
-
বিপুল স্টোরেজ: গুগল প্রতিটি অ্যাকাউন্টের সাথে বিনামূল্যে ১৫ জিবি (15 GB) ক্লাউড স্টোরেজ দেয়, যা জিমেইল, ড্রাইভ এবং ফটোজ-এর মধ্যে শেয়ার করা হয়।
নিরাপত্তা: জিমেইলে শক্তিশালী স্প্যাম ফিল্টার রয়েছে যা অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকারক মেইলগুলোকে আপনার ইনবক্স থেকে দূরে রাখে। এছাড়া এর টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন (2-Step Verification) বৈশিষ্ট্যটি অ্যাকাউন্টকে হ্যাকারদের থেকে সুরক্ষিত রাখে।
জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সংক্ষিপ্ত ধাপসমূহ
জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা খুবই সহজ। নিচে প্রধান ধাপগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো (বিস্তারিত জানতে আপনার প্রথম প্রশ্নটি দেখতে পারেন):
১. গুগল সাইন-আপ পৃষ্ঠায় যান: ব্রাউজারে gmail.com বা accounts.google.com/signup খুলুন।
২. তথ্য দিন: আপনার নাম (প্রথম ও শেষ নাম), জন্ম তারিখ এবং লিঙ্গ লিখুন।
৩. ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড: একটি অনন্য ইউজারনেম (ইমেল ঠিকানা) এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।
৪. রিকভারি তথ্য (ঐচ্ছিক): অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য আপনার ফোন নম্বর এবং একটি রিকভারি ইমেল আইডি দিতে পারেন (এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে দেওয়া উচিত)।
৫. শর্তাবলী মেনে নিন: গুগলের গোপনীয়তা এবং শর্তাবলীতে রাজি (I agree) হলেই আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
জিমেইল একাউন্ট তৈরি করার পদ্ধতি খুবই সহজ। আপনি কম্পিউটার বা মোবাইল—যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করেই এটি করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:
১. গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরির পৃষ্ঠায় যান:
-
আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের ইন্টারনেট ব্রাউজার (যেমন Chrome, Firefox, Safari) খুলুন।
-
অ্যাড্রেস বারে gmail.com লিখুন এবং এন্টার চাপুন।
-
যদি আপনি আগে থেকেই কোনো গুগল অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করা থাকেন, তবে ডানদিকের উপরের প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে “Add another account” বা “অন্য অ্যাকাউন্ট যোগ করুন” অপশনটি বেছে নিন।
-
নতুন একটি সাইন-ইন পৃষ্ঠা আসবে। সেখানে Create account (বা অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন) লেখাটিতে ক্লিক করুন। একটি ড্রপ-ডাউন মেনু আসবে। আপনি নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য খুলতে চাইলে For myself (বা আমার নিজের জন্য) বেছে নিন।
২. ব্যক্তিগত তথ্য দিন:
-
এখন আপনার সামনে একটি ফর্ম আসবে। এখানে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো সঠিক এবং সতর্কতার সাথে পূরণ করুন:
-
First name: আপনার প্রথম নাম (যেমন: ‘রহিম’)।
-
Last name: আপনার শেষ নাম (যেমন: ‘খান’)।
-
Username: এটিই হবে আপনার ইমেল ঠিকানা। যেমন:
rahimkhan1234। আপনি যা ইউজারনেম চাইবেন তা যদি আগে কেউ ব্যবহার করে থাকে, তবে গুগল আপনাকে অন্য কিছু বেছে নিতে বলবে। একটি অনন্য (unique) ইউজারনেম ঠিক করুন। ইউজারনেমটি অবশ্যইusername@gmail.comফরম্যাটে হবে। -
Password: একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। পাসওয়ার্ডে অন্তত ৮টি অক্ষর থাকতে হবে এবং এতে বড় হাতের অক্ষর (A), ছোট হাতের অক্ষর (a), সংখ্যা (0-9) এবং বিশেষ চিহ্ন (যেমন @, #, $, !) মিশ্রিত থাকলে ভালো হয়। এটি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
-
Confirm password: উপরের বক্সে যে পাসওয়ার্ডটি দিয়েছেন, তা পুনরায় এই বক্সে হুবহু টাইপ করুন।
-
-
সবকিছু পূরণ করা হলে Next (বা পরবর্তী) বোতামে ক্লিক করুন।
৩. মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদান (ঐচ্ছিক কিন্তু পরামর্শযোগ্য):
-
পরবর্তী পৃষ্ঠায় গুগল আপনার নিরাপত্তার জন্য কিছু অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে:
-
Phone number: আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন। গুগল একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠিয়ে আপনার নম্বরটি যাচাই করতে পারে। এটি আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার (recovery) করার জন্য খুবই দরকারী যদি আপনি পাসওয়ার্ড ভুলে যান। আপনি চাইলে এটি নাও দিতে পারেন, তবে নিরাপত্তার জন্য দেওয়া উচিত।
-
Recovery email address: আপনার যদি আগে থেকে অন্য কোনো ইমেল অ্যাকাউন্ট (যেমন Yahoo, Hotmail) থাকে, তবে সেটি এখানে দিতে পারেন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা অ্যাকাউন্টে কোনো সমস্যা হলে এই ইমেল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এটিও ঐচ্ছিক।
-
Birthday: আপনার জন্মতারিখ এবং বছর সঠিকমত বেছে নিন।
-
Gender: আপনার লিঙ্গ (পুরুষ/মহিলা/অন্যান্য) নির্বাচন করুন।
-
-
সব তথ্য দেওয়া হলে Next ক্লিক করুন।
৪. মোবাইল নম্বর যাচাইকরণ (যদি নম্বর দিয়ে থাকেন):
-
যদি আপনি মোবাইল নম্বর দিয়ে থাকেন, তবে গুগল একটি কোড পাঠানোর জন্য অনুমতি চাইবে। আপনার মোবাইলে ৬ সংখ্যার একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে।
-
সেই কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে টাইপ করে Verify ক্লিক করুন।
৫. গুগলের শর্তাবলীতে সম্মতি:
-
শেষে একটি পৃষ্ঠা আসবে যেখানে গুগলের “Privacy and Terms” (বা “গোপনীয়তা এবং শর্তাবলী”) লেখা থাকবে। এটি পড়ে দেখতে পারেন।
-
নিচের দিকে নেমে I agree (বা আমি রাজি) বোতামে ক্লিক করুন।
ব্যাস! আপনার জিমেইল একাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে। এখন আপনি সরাসরি আপনার জিমেইল ইনবক্সে চলে যাবেন এবং নতুন ইমেল পাঠানো ও গ্রহণ করতে পারবেন।














